মোহাম্মদপুরের অপরাধের চিত্র: পুলিশের বিব্রতকর অবস্থা ও বাস্তবতা
মোহাম্মদপুর অপরাধ: পুলিশের বিব্রতকর অবস্থা

মোহাম্মদপুরের অপরাধের চিত্র: পুলিশের বিব্রতকর অবস্থা ও বাস্তবতা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ ও সহিংসতার জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে। এই এলাকার নাম উচ্চারণ করলেই অনেক নাগরিকের মনে ভীতিকর ছবি ভেসে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মোহাম্মদপুর নিয়ে নানা ধরনের ট্রল ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশও চাপের মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের ভিন্ন দাবি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি

তবে, মোহাম্মদপুরকে নিয়ে এত সমালোচনার বিপরীতে পুলিশের একটি ভিন্ন দাবিও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশেপাশের এলাকায় সংঘটিত অপরাধের ঘটনাও অনেক সময় মোহাম্মদপুরের নামে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন বলে তারা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে অপরাধ শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বহুদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত ও সংগঠিত নেটওয়ার্কের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এলাকাটিতে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং নানা ধরনের অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গ্রুপের আলাদা নেতৃত্ব রয়েছে, যারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যেই অস্ত্রের মহড়া, সহিংসতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে এসব গ্রুপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা

এই ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ হিসেবে গত ১৫ এপ্রিল রাতে সাদেক খান ইটভাটার সামনে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে গত ১২ এপ্রিল একই এলাকার রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমন নিহত হন। মাত্র ৩০০ মিটারের ব্যবধানে এই দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এছাড়া ১৫ এপ্রিল ভোর রাতে নূরজাহান রোড এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন সাঈদ হাসান তানিম নামের একজন ফটোগ্রাফার। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে তারা।

পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

একটি থানা এলাকার অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারাও ‘বিব্রত’ বোধ করেন। তাদের মতে, মোহাম্মদপুরের থেকেও অন্য এলাকাগুলোতে অপরাধ বেশি হচ্ছে, কিন্তু নাম হচ্ছে মোহাম্মদপুরের। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মোহাম্মদপুরের পাশের থানা হচ্ছে আদাবর এলাকা। সেখানেও কোনো অপরাধ সংঘঠিত হলে নাম আসে মোহাম্মদপুরের। কলেজ রোড পড়েছে অন্য থানা এলাকায়, অথচ সেখানে কোনও অপরাধ ঘটলে বলা হয় মোহাম্মদপুর এলাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে মোহাম্মদপুরের চেয়েও বেশি অপরাধ হয় অন্য থানা এলাকায়। কিন্তু মোহাম্মদপুরে কিছু ঘটলেই এটি চলে আসে আলোচনায়। এই এলাকার বিষয়ে অপপ্রচারও বেশি হচ্ছে। যা আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।”

মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের এই বিব্রতকর অবস্থা এবং স্থানীয়দের উদ্বেগ উভয়ই সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।