চুরি হওয়া প্রাইভেট কার উদ্ধার, গ্রেপ্তার চালক মো. ইব্রাহিম
চুরি হওয়া প্রাইভেট কার উদ্ধার, গ্রেপ্তার চালক

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার চুরি: মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ও গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একটি প্রাইভেট কার চুরির অভিযোগে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে। মামলা হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চালক মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের পার্কিং থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

চুরির পেছনের কাহিনী

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. ইব্রাহিম নামের এই চালক ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে গাড়ির মালিক মাসুমা আক্তারের কাছে চাকরি নিয়েছিলেন। প্রায় আট মাস কাজ করার পর তাঁর প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে তাঁকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। তবে, চাকরি হারানোর সময় ইব্রাহিমের কাছে গাড়ির একটি নকল চাবি রয়ে যায়, যা পরে তিনি চুরির কাজে ব্যবহার করেন। ১৬ এপ্রিল ভোরে, মাসুমা আক্তারের বাসার সামনে পার্কিং থেকে টয়োটা প্রিমিও মডেলের গাড়িটি চুরি করে নিয়ে যান তিনি।

মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

গাড়ি চুরির পরদিন, অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল, মালিক মাসুমা আক্তার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চুরি হওয়া গাড়িটির নম্বর ছিল চট্ট মেট্রো-গ-১৩-৩৬৯১ এবং এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যার ফলে দ্রুত অভিযান শুরু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাং সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় চালক ইব্রাহিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইব্রাহিম মূলত কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় বসবাস করছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম গাড়ি চুরির কথা স্বীকার করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরও তদন্ত চলছে

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনায় ইব্রাহিম ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এই অপরাধ মোকাবিলায় একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এই ঘটনা প্রাইভেট গাড়ি মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, বিশেষ করে চালক নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে নজর দেওয়া উচিত। পুলিশের তৎপরতা আশা জাগাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ দমনে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।