ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের অপপ্রচার তীব্র
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে ঘিরে একটি কুচক্রী মহল আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার সম্ভাব্য পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন ঠেকাতে চক্রটি অপপ্রচার চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে বলে ঢাকা রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওসি পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ও ব্ল্যাকমেইলিং
ঢাকা রেঞ্জে ওসি পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অপপ্রচার চলছে। এ বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, থানায় ওসি পদায়নের সম্পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি)। এখানে রেঞ্জ ডিআইজির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। ওসি পদায়নে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ডিআইজিকে ফোন করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের হুমকি দিচ্ছে।
পুলিশের উদারপন্থি কর্মকর্তাদের বক্তব্য
পুলিশের মধ্যে উদারপন্থি পেশাদার ও চৌকশ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত কয়েকজন জানান, সরকারকে একই সঙ্গে দুটি বিষয় প্রাধান্য দিতে হচ্ছে। প্রথমত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ও নির্যাতিতদের প্রাপ্য মূল্যায়ন বিবেচনায় নেওয়া। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন। এ দুটি বিষয়ে সরকার ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করছে। অথচ পুলিশের স্বার্থান্বেষী মহল অপকৌশলে লিপ্ত। তারা মনে করেন, রেজাউল করিম মল্লিকের অবদান বিবেচনার পাশাপাশি অন্যদের যৌক্তিক বিষয়টি দেখতে হবে এবং কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও পদোন্নতির মাপকাঠি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পদোন্নতি ও পদায়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো মেধা, যোগ্যতা ও পেশাদারি। তবে যাদের চাকরির মেয়াদ বেশি আছে, তাদের আরেকটু ধৈর্যশীল হতে হবে। তুলনামূলক জুনিয়র এবং চাকরির মেয়াদ বেশি থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা ছাড় দিলে বদলি-পদায়ন বজায় রাখা সহজ হবে।
রেজাউল করিম মল্লিকের পেশাদারি ও ষড়যন্ত্র
রেজাউল করিম মল্লিক পুলিশে একজন চৌকশ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। এজন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন কিছু না। সম্প্রতি একটি বিশেষ ইউনিটের প্রধান হিসাবে তার নাম আলোচনায় আসায় ষড়যন্ত্রকারীরা ফের তৎপর হয়ে উঠেছে। ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে যোগদান করেন তিনি। তিনি তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়জুড়ে তিনি পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে চাকরির ১৭ মাসের মাথায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৪ বছর আইনি লড়াই করে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
সিআইডি ও ডিবিতে তার ভূমিকা
সিআইডিতে থাকাকালীন তাকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তারা জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভাবমূর্তি যখন সংকটে, তখন পেশাদার পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙা রাখতে রেজাউল করিম মল্লিক ছিলেন সামনের কাতারে। এছাড়া ডিবিপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ‘ভাতের হোটেল’ খ্যাত ডিবিকে পেশাদারির সঙ্গে নতুন মর্যদায় উন্নীত করতে সক্ষম হন। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি এবং দোসর হিসাবে পরিচিত সাবেক কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তিনি ডিবির প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তবে একপর্যায়ে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় ডিবিপ্রধানের পদ থেকে। পরে তিনি নিয়োগ পান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসাবে।
ঢাকা রেঞ্জে তার সাফল্য
এখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো চ্যালেঞ্জিং এলাকায় আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করে দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রেখেছেন। তার পেশাদারি ও অবদান সত্ত্বেও কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা পুলিশ বাহিনীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



