বাগমারায় অস্ত্রসহ কিশোর আটক: পুলিশ উদ্ধারে গিয়ে অবরুদ্ধ, পরে অতিরিক্ত বাহিনী উদ্ধার করে
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় একটি উত্তেজনাকর ঘটনায় ধারালো অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়াসহ এক কিশোরকে জনতার হাতে আটক করা হয়েছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেরাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের উদ্ধার করে এবং আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গতকাল শুক্রবার রাতে বাগমারা উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক কিশোরটি জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সে ভাড়াটে হিসেবে এসে ধরা পড়ে এবং তার ব্যাগ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বিনোদপুর মরাকুড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ১০-১২ জন প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বসবাসের জায়গা প্রতিপক্ষ রেজাউল ইসলামের দাবি করে ছেড়ে দিতে বলে। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তারা হামলার চেষ্টা করে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই কিশোরকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
পুলিশের উদ্ধার প্রচেষ্টা ও অবরুদ্ধ হওয়া
রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ডি এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদাপোশাকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা পৌঁছেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে লাঠিপেটা শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। পরে পুলিশ নিজেদের পরিচয় দেন, কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। রাত ১১টার দিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অবরুদ্ধ থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয় এবং আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বিরোধের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনোদপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাঁরা পরস্পরের চাচাতো ভাই। ওই জমিতে সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেন পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন, যা রেজাউল করিমের ক্ষোভের কারণ হয়। তিনি জমিটি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন এবং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন বলে সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার জমিতেই বাড়ি তৈরি করেছি, বসবাসও শুরু করেছি। এখন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে পরিবারকে উচ্ছেদ করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা প্রভাবিত হয়ে রাতে বাড়িতে ঢুকে লোকজনকে লাঠিপেটা শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন, যা প্রত্যাশিত নয়।
অন্যদিকে রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘বাড়িটি আমার, সাদ্দাম দখল করে নিয়েছে। আমি বাড়িতে থাকার জন্য বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসছিলাম। সাদ্দাম হোসেন উল্টো লোকজন নিয়ে মব তৈরি করেছে।’
পুলিশের বক্তব্য
হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পরে আটক কিশোরকে উদ্ধার করলেও নিয়ে আসা যাচ্ছিল না, কারণ সাদ্দাম হোসেনের লোকজন মব তৈরি করে। পরে ওসি স্যারের সহযোগিতায় উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’ তিনি সাদাপোশাকে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, তড়িঘড়ি করে যাওয়াতে পোশাক পরা যায়নি।
চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে বলেছিলাম। উল্টো পুলিশ এসে সাধারণ লোকজনকে গালিগালাজ করেছে। পুলিশের আচরণ ভালো ছিল না, এ জন্য পরিবেশ উত্তপ্ত হয়েছিল।’



