জরুরি সেবার লাইনে তেল নিতে গিয়েও জরিমানা পুলিশ সদস্যের, প্রশ্ন জেলা পুলিশের
জরুরি সেবার লাইনে তেল নিতে জরিমানা পুলিশ সদস্যের

জরুরি সেবার লাইনে দাঁড়িয়েও রেহাই পেল না পুলিশ: চুয়াডাঙ্গায় জরিমানার ঘটনায় উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় এক পুলিশ সদস্য জ্বালানি তেল সংগ্রহের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার সম্মুখীন হয়েছেন। জরুরি সেবার আওতায় থাকা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে স্বয়ং জেলা পুলিশ প্রশাসন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত ওই পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে একটি ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

শুক্রবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য জরুরি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের সিদ্ধান্ত উপেক্ষার অভিযোগ

জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিকল্প লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই এতদিন কার্যক্রম চলছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক এ ঘটনায় সেই সিদ্ধান্ত কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মনোবল ও কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা

পুলিশের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন সদস্যকে এভাবে জরিমানার মুখে পড়তে হলে তা বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া জরুরি সেবার কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচাররোধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে আসছে পুলিশ। তবে মাঠপর্যায়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি সামগ্রিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।"

সমন্বিত কার্যক্রমের আহ্বান

পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জরুরি সেবার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।