মোহাম্মদপুরে তিন দিনে দ্বিতীয় খুন: আসাদুল হক নিহত, কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক
মোহাম্মদপুরে তিন দিনে দ্বিতীয় খুন, আসাদুল হক নিহত

মোহাম্মদপুরে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় খুন: আসাদুল হক নিহত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আরেকটি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও পুলিশ দাবি করছে যে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর আসাদুলকে তাঁর এক বন্ধু রায়েরবাজার সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ওত পেতে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং এই সময় তাঁর সহযোগীরাই তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে আসাদুলকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক আসাদুলের কাঁধে হাত দিয়ে একটি গলির শেষ মাথায় নিয়ে যান। মোটরসাইকেলে করে আরেক যুবক এসে তাঁকে চাপাতি নিয়ে কোপান এবং আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন যুবক তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আসাদুলের ওপর হামলা চালান। আসাদুলের পকেট থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও পূর্ববর্তী ঘটনা

পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানিয়েছেন, আসাদুল মোহাম্মদপুরে খুচরা মাদকের কারবার করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদক বিক্রি ও টাকার লেনদেন নিয়ে তাঁদের নিজ দলের মধ্যেই বিরোধ চলছিল, যার জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এডিসি জুয়েল রানা আরও বলেছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এর আগে, গত রোববার বিকেলে রায়েরবাজারে ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমন নামের এক কিশোর গ্যাং নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ইমন কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর প্রধান ছিলেন এবং ছিনতাই হওয়া একটি মুঠোফোন নিয়ে কিশোর গ্যাং আরমান-শাহরুখের পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে খুন হন তিনি।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

নিহত আসাদুলের মামাতো ভাই রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন, খুনের ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেছেন, তাঁর ভাই যেখানে খুন হয়েছেন, সেখান থেকে তাঁর বাসা ৫০০ গজের মধ্যে। এলেক্স ইমন খুন হওয়ার পর ওই জায়গায় দিনে পুলিশি পাহারা ছিল, কিন্তু রাতে থাকত না। সেখানে পুলিশি পাহারা থাকলে তাঁর ভাই খুন হতেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে মোহাম্মদপুর ও আদাবরে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ, কিন্তু এরপরও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি থামানো যাচ্ছে না। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেছেন, কিশোর গ্যাংয়ের যে পক্ষের সদস্যরা আইনের আওতায় আসে, সেই পক্ষের কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে যায়, কিন্তু পরে নতুন নামে আরেকটি পক্ষ মাথাচাড়া দেয়।

গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোহাম্মদপুর–আদাবর থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমন হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ছয় আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এডিসি জুয়েল রানা আরও উল্লেখ করেছেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে অভিযান চালিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিনের মাথায় তাদের অনেকেই কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের অক্টোবরে মাদকসহ আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তিনি জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

মোহাম্মদপুর এলাকায় এই ধারাবাহিক অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে, এবং পুলিশ দাবি করছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।