রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: গ্রেফতার ২, ছাড়া পেলেন ১
রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: গ্রেফতার ২, ছাড়া ১

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে পরে মামলার এক আসামিকে থানা থেকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার ও মুক্তি

গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন—মহানগরীর বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান মো. মুজাহিদ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মুজাহিদকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল (১১ মে) নির্যাতনের শিকার তুষারের বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম মামলার এজাহারে থাকলেও তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মুজাহিদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(ক) ধারায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে রোববার (১০ মে) মহানগরীর কাজলা বিলপাড়া এলাকায় তুষার নামে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের পর পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে সোমবার তিনি বাড়ি ফেরেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগ তুলে তুষারের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৯ মে রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন ব্যক্তি তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। সেই সময় তুষারের বাবা তাকে বাড়িতে নেই বলে জানালে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে তুষার হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।