স্বাধীন বাংলা মার্কেটে নারীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে
মিরপুরে নারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

রাজধানীর মিরপুরে সামসাদ আরা সাথী নামে এক নারী ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে ৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আজমের বিরুদ্ধে। মিরপুর-১ নম্বরের স্বাধীন বাংলা মার্কেটের জমি দখল ও হামলার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে, মামলা ও আসামি ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই দফায় এই টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী সাথী জানান, স্বাধীন বাংলা মার্কেট দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে ছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের পর মার্কেটটি দখলমুক্ত হলে অবৈধ দখলদাররা পুনরায় দখল করে তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। থানায় অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং ওসি তাকে ঘুরাতে থাকেন।

৪-৫ দিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর এসআই হাসান ও এসআই তরিকুল ওসির পক্ষে মধ্যস্থতা করেন। তারা বলেন, ওসি একা সামলাতে পারবেন না; এসি, এডিসি, ডিসি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এরপর ওসি ৫ লাখ টাকা চাইলে সাথী প্রথম কিস্তিতে আড়াই লাখ টাকা থানায় নিয়ে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় কিস্তির দাবি

পরের দিন বাকি আড়াই লাখ টাকার জন্য সাথীকে একাধিকবার ফোন দেন ওসি। কষ্টে টাকা জোগাড় করে তিনি দ্বিতীয় কিস্তি ওসির হাতে তুলে দেন। সাথী বলেন, 'আমি নিজে থানায় গিয়ে তার হাতে টাকা দিয়েছি। টাকার জন্য আমাকে ফোনও দিয়েছেন তিনি। আমার কাছে অনেক তথ্য-প্রমাণ আছে। থানার সিসি ক্যামেরা চেক করলেও অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। আমি নারী হয়ে তার কাছে আইনের সহায়তা চাইলাম, আর তিনি সে সুযোগে ঘুস নিলেন।'

ওসির বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি গোলাম আজম বলেন, 'সাথী নামে এক নারী তার মার্কেটের সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন। কাউকে মার্কেট দখল করে দেওয়া কিংবা ভাড়া তুলে দেওয়া আমার কাজ না। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। এটি ভিত্তিহীন।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিসির প্রতিক্রিয়া

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, 'এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছেই শুনেছি। অভিযোগের কাগজ আসুক, তারপর দেখব।'

ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তিনি আশা করছেন, ডিএমপি কমিশনার দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।