নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের চেকপোস্টে তিনটি পিস্তলসহ ধরা পড়া আবদুর রহমান ওরফে রাহিম। আজ সন্ধ্যায় গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বাইতুল নূর জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটকের বিবরণ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে আবদুর রহমান ওরফে রাহিম (২১) নামের এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কোমরে গুঁজে রাখা অবস্থা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আজ সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে স্থাপিত একটি পুলিশ চেকপোস্টে তাঁকে আটক করা হয়।
আটকের পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, আটক রাহিম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। আটকের পর তাঁকে বেগমগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেগমগঞ্জ থানার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানের অংশ হিসেবে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে রাহিম ওই চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় পুলিশ তাঁকে থামায়। পরে তাঁর আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে শরীরে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে যুবকের কোমরে গুঁজে রাখা অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটিও জব্দ করে পুলিশ।
রাজনৈতিক সংযোগের দাবি
এদিকে, অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়া আবদুর রহমান স্থানীয় জামায়াতের কর্মী বলে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের সময় অনেকে প্রার্থীর পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাতে তো তিনি দলীয় কর্মী হয়ে যান না। তিনি যত দূর জেনেছেন ভোটের পর থেকে রাহিম স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী সম্রাটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। আটক ওই মোটরসাইকেলটিও সম্রাটের।’
পুলিশের বক্তব্য
জানতে চাইলে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তিনটি পিস্তল, আটটি গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বেগমগঞ্জে অবৈধ অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার হওয়া রাহিমকে আগামীকাল নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।



