রাজধানীর কাওরান বাজারে হোটেল সোনারগাঁও সিগন্যালে ট্রাফিক আইন অমান্য করতে নিষেধ করায় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনায় নারীসহ তিন জনকে সাজা ও জরিমানা করেছেন তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
আসামিরা কারা?
আসামিরা হলো– আফিয়া কনক (৪৫), শামসুজ্জামান (৫১) ও রাজু আহম্মেদ (২৯)। ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বহির্গমন (ভেতরের) গেট থেকে দুটি গাড়ি মেইন রাস্তায় বের হয়। এ সময় সোনারগাঁও সিগন্যালের উত্তর পাশের যানবাহন চলাচলের সিগন্যাল চালু থাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. শামীম মিয়া গাড়ি দুটিকে পেছনে যেতে বলেন। গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে জোরপূর্বক সামনে এগোতে থাকে। গাড়ি থেকে চার-পাঁচ জন লোক নেমে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে বলেন, গাড়িতে ভিআইপি আছে পেছানো যাবে না।
মারধর ও মোবাইল ভাঙচুর
এ সময় ট্রাফিক কনস্টেবল শামীম মিয়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গাড়িটির নেম প্লেটের ভিডিও করতে গেলে গাড়ি থেকে নেমে আফিয়া কনক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং রাস্তায় ছুঁড়ে ভেঙে ফেলেন। একইসঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়।
গ্রেপ্তার ও আদালতের রায়
পরে ঘটনাস্থল থেকে রাজু আহমেদ ও শামসুজ্জামানকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। আফিয়া কনকসহ তিন আসামিকে তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে সড়ক পরিবহন আইনের ধারা মোতাবেক আফিয়া কনককে ১০ হাজার টাকা, রাজুকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া শামসুজ্জামানকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।



