ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পৃথক এলাকায় একই দিনে দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গাড়ির হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সদর ইউনিয়নে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া পূর্ব বিরোধের জেরে চুন্টা ইউনিয়নে পৃথক আরও একটি সংঘর্ষ হয়। দুটি সংঘর্ষেই টর্চের আলো জ্বালিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেন গ্রামবাসী। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে।
হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় সরাইল সদর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মাইক্রোবাস চালক মোহাম্মদ জয় পাঠানপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় রাস্তা থেকে পথচারীদের সরাতে হর্ন বাজান। এনিয়ে পাঠানপাড়া গ্রামের ইদ্রিসখার জামাতার সঙ্গে মাইক্রোচালক জয়ের কথা কাটাকাটি হয়। তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে পাঠানপাড়া ও আলীনগর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় পাঠানপাড়া গ্রামের পক্ষে জিলুকদার পাড়া এবং আলীনগর গ্রামের পক্ষ নিয়ে নিজ সরাইল গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
পূর্ব বিরোধের জেরে আরেক সংঘর্ষ
এদিকে রাতে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের চুন্টা গ্রামে মসজিদে নামাজ পড়ানো নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সফরের গোষ্ঠী ও শ্রাবণের গোষ্ঠির মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পৃথক দুটি ঘটনায় মোট অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি সংঘর্ষই নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



