সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়িয়ে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন: ‘পশ্চিমবঙ্গে কে জিতলো তাতে কিছু আসে যায় না। আমরা চাইলে পাঁচ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারি।’
ভুয়া প্রমাণিত ফটোকার্ড
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। বিষয়টি যাচাই করে জানা যায়, একটি স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক প্রোফাইল বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
স্যাটায়ার পেজ থেকে উৎপত্তি
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডটি প্রথম প্রকাশ করা হয় ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে, গত ৫ মে। পেজটির পরিচিতি অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে এটি একটি ‘Satire & Parody platform’ এবং তাদের সব কনটেন্ট শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি। পেজটি পর্যালোচনা করলে একই ধরনের আরও বহু ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক পোস্ট দেখা যায়। ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত ফটোকার্ডটিও কৌতুক ও ব্যঙ্গের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার
স্যাটায়ার পেজটির পোস্টটি কেউ কেউ স্ক্রিনশট করে তা বাস্তব বক্তব্য হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এতে করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। রিউমর স্ক্যানার টিমের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ‘পশ্চিমবঙ্গে কে জিতলো তাতে কিছু আসে যায় না। আমরা চাইলে পাঁচ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারি’— শিরোনামে হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।
সুতরাং, এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, সামাজিক মাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যখন কোনো বক্তব্য বিতর্কিত বা সংবেদনশীল হয়, তখন তা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে তবেই প্রচার করা উচিত।



