ঝিনাইদহের শৈলকুপায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এক সংবাদকর্মীর মুক্তি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্লার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা। তাঁরা গ্রেপ্তার সংবাদকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
গ্রেপ্তার সাংবাদিকের পরিচয়
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম। তিনি উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় একটি পত্রিকায় কর্মরত বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ আশরাফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটক করে। পরদিন রোববার দুপুরে তাঁকে মোহন শেখ হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি জেলা কারাগারে আছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে ২৩ এপ্রিল মোহন শেখ (৭০) নিহত হন। নিহত মোহন শেখ আবু জাহিদ চৌধুরীর সমর্থক ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া আশরাফুল ইসলামও একই পক্ষের সমর্থক এবং হত্যাকাণ্ডের পর বিচার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
বক্তাদের অভিযোগ, মামলার এজাহারে আশরাফুল ইসলামের নাম না থাকলেও গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
স্ত্রীর বক্তব্য
মানববন্ধনে আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে চা খাওয়ার কথা বলে পুলিশ তাঁর স্বামী আশরাফুলকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারেন, তাঁকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সাংবাদিক নেতার বক্তব্য
ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবীর বলেন, পুলিশ ব্যক্তিগত আক্রোশে আশরাফুলকে এ মামলায় জড়িয়েছে। হত্যার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরাগভাজন হন।
মামলার বাদীর এফিডেভিট
এদিকে মোহন শেখ হত্যা মামলার বাদী হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, আশরাফুল ইসলামের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য তিনি পাননি। এ কারণে আজ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে একটি লিখিত এফিডেভিট দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ূন কবির মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



