টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে নারী ও নবজাতকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ছয় দিন পরও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদের পাড় থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। এ সময় মাটির নিচের থাকা বস্তার একটি অংশ কুকুর কামড়ে ধরে টানছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ দুটি অজ্ঞাত হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত
ঘটনার দিন মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে বস্তা বের করার পর নারীর সঙ্গে নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ওই নারী সাত থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে নবজাতকটি প্রসব হয় বলে পুলিশের ধারণা। মৃত্যুর পর দুজনকেই বস্তাবন্দী করে নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
মামলার অগ্রগতি
এ বিষয়ে আজ রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ পারভেজ বলেন, লাশ দুটি উদ্ধারের সময়ই অর্ধগলিত ছিল। সুরতহাল করার সময় নারীর গলায় ওড়নাজাতীয় একটি কাপড় প্যাঁচানো পাওয়া যায়। ডান হাতের মাংসপেশি ছিল না। মনে হচ্ছিল কুকুরে কামড়িয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠানোর পর সেখানে ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পেতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নারী ও নবজাতকের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দুজনেরই পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।



