চাঁদপুরের কচুয়ায় আড়াই বছরের এক শিশু কন্যাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ২ মাস ১৪ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কচুয়া পৌরসভাধীন করইশ গ্রামের মৃধা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা যায়, করইশ মৃধা বাড়ির আমিন হোসেনের প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ২০২২ সালের ২ এপ্রিল দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে শারমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনের একপর্যায়ে শারমিন শেফায়েত উল্যা ওরফে তানভীর নামক এক ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজশে শারমিন গত ২৪ মার্চ রাত ২টার দিকে ফাহমিদা আক্তারের মুখে কম্বল চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিচারের দাবিতে শিশুটির বাবা আমিন হোসেন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান।
আইনি প্রক্রিয়া
প্রায় এক মাস এলাকার সর্দার-মাতাব্বররা ঘটনার সুরাহা করতে না পারায় এক মাস পর আমিন চাঁদপুরের বিজ্ঞ আমলী আদালতে (কচুয়া) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চাঁদপুরের পিবিআইয়ের নিকট হস্তান্তর করে।
লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত
মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিশু কন্যা ফাহমিদা আক্তারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক এমারত হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স।
পরিবারের বক্তব্য
নিহত ফাহমিদার জেঠা শফিকুল ইসলাম জানান, ফাহমিদা রাত প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের সাথে খেলাধুলা করে। এরপর সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি ফাহমিদার খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।



