সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত গ্রাম কলাগাঁওয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকন্যা ইয়াবা আসক্ত দুই কিশোরের গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও থানায় আইনি সহায়তা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণধর্ষণে জড়িত এক কিশোরের মা ও স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিবরণ
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী পরিবারের ইয়াবা আসক্ত দুই কিশোর মজনু ও কামাল (ছদ্দনাম) দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুকন্যাকে ফাঁকা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে প্রতিবেশী বাড়ির টয়লেটের ভেতর আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়। ভিকটিম বাড়ি ফিরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের ঘটনা জানায়।
চিকিৎসা ও আইনি সহায়তায় বাধা
গণধর্ষণের কারণে ভিকটিমের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ধর্ষণকারী কিশোরের মা তাকে স্থানীয় বাজারে পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজের কাছে নিয়ে যান। তিনি রক্তক্ষরণ বন্ধের ওষুধ দেন এবং সরকারি হাসপাতালে না যেতে পরামর্শ দেন। পরে ঘটনা জানাজানি হলে পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ভিকটিমের পরিবারকে বলেন, ‘ইজ্জত যাবে, থানায় গিয়ে অভিযোগ না করে বিচার সালিসে সমাধান করুন।’
ভিকটিমের পরিবার ও প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, ধর্ষণকারী কিশোরের মা ও পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ মিলে তাদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও থানায় আইনি সহায়তা নিতে বাধা দেন। এতে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শনিবার দুপুরে সমাজ উন্নয়নকর্মী মোর্শেদ আলম সাদ্দাম ও খুর্শিদ আলমের সহায়তায় ভিকটিমকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পল্লী চিকিৎসকের বক্তব্য
শনিবার সন্ধ্যায় পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য ওষুধ দিয়েছি। গণধর্ষণ হয়েছে কি না জানি না। আমি ভিকটিমের পরিবারকে থানায় যেতে বাধা দেইনি।”
পুলিশের অবস্থান
তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ভিকটিম শিশুকন্যা বর্তমানে থানায় রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



