চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ মোট ২২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। হাটহাজারী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় দুজন কাতার প্রবাসী, একজন ফটোসাংবাদিক ও সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
হাটহাজারী মামলায় অসঙ্গতি
বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ অভি (২৪) এবং ৬৮ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবির (৩০) বর্তমানে কর্মসূত্রে কাতারে অবস্থান করছেন। অভির পরিবার দাবি করেছে, তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অভি বলেন, ‘আমি দেশে না থেকেও আমাকে মামলার ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’ ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার দাবি জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুলিশ ওই মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ফটিকছড়ি মামলায় সাবেক মেয়র
অন্যদিকে, ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামির তালিকায় চট্টগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারও রয়েছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৯০ জনকে। মামলার জব্দ তালিকায় চারটি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধারের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার ভোরে হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। বৃহস্পতিবার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফটিকছড়িতে আরেকটি মিছিল বের করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় এসআই মো. জামাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মিছিল করার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামি যথাক্রমে মো. জামান বাবু ও সাইফুল ইসলাম সজিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।
পুলিশের বক্তব্য
ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



