চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত এগারো বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই শিশুটি শুক্রবার থেকে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। আজ সকালে পৌনে ১০টায় মারা গেছে। তিনি আরও জানান, একটি গুলি রেশমির চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে ছিল। এ কারণে ‘ব্রেন ডেড’ ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর তার মস্তিষ্ক কাজ করেনি।
ঘটনার বিবরণ
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন রৌফাবাদ কলোনির বাসিন্দা রেশমি আক্তার গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ঘর থেকে দোকানে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলির সামনে পড়ে যায়। একটি গুলি তার চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে যায়। একই ঘটনায় নিহত হন হাসান ওরফে রাজু (৩২) নামে এক যুবক। রাজু রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ওই উপজেলায় সম্প্রতি নাছির নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকেও আসামি করা হয়। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বায়েজিদে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেয় রাজু।
পরিবারের পরিচয়
রেশমি আক্তার রৌফাবাদ কলোনির হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ গুড্ডুর মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। স্থানীয় ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল রেশমি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রেশমির মা তাকে পাশের দোকানে কিছু পণ্য কিনতে পাঠান। ফেরার সময় হঠাৎ কলোনির গলিতে গোলাগুলি শুরু হয়। আতঙ্কিত মানুষ ছুটোছুটি শুরু করলে গুলির মাঝে পড়ে যায় রেশমি। মুহূর্তেই একটি গুলি এসে লাগে তার চোখের নিচে। গুলিবিদ্ধ রেশমি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ-চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আইসিইউ সাপোর্টের কথা জানান। কিন্তু তখন চমেকে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় পরিবারের সদস্যরা গভীর রাতে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চমেক হাসপাতালে আইসিইউ খালি হলে তাকে সেখানে নিয়ে আসা হয়।



