ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁকে দেওয়া পোল্যান্ড সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি গত শুক্রবার জেলেনস্কিকে দেওয়া তাঁর দেশের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা বাতিল করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন গতকাল শনিবার জেলেনস্কি পদক ফেরত দেওয়ার কথা জানান।
সম্মাননা প্রদান ও বাতিলের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ প্রদান করেছিলেন। গত মাসে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিতর্কিত যোদ্ধা গোষ্ঠী ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসার্জেন্ট আর্মি’ (ইউপিএ) রাখা হয়। এ নিয়ে কিয়েভ তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইউপিএ বিতর্ক ও পোল্যান্ডের অবস্থান
ইউক্রেনের অনেক মানুষ ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে সক্রিয় থাকা ইউপিএকে বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁদের মতে, সংগঠনটি সোভিয়েত রেড আর্মি, নাৎসি জার্মানি ও পোলিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল। বর্তমানে ইউক্রেনীয় সেনাদের সামনের সারির অনেক ইউনিটেও এ গোষ্ঠীর লাল-কালো পতাকা ব্যবহৃত হয়। তবে পোল্যান্ডের অভিযোগ, ইউপিএ ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ভলহিনিয়া অঞ্চলে (বর্তমানে ইউক্রেনের ভোলিন) প্রায় ১ লাখ জাতিগত পোলিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছিল।
জেলেনস্কির বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের যৌথ অতীতের কঠিন ও বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা এড়ানোর চেষ্টা করতে ইউক্রেন পোল্যান্ডের সঙ্গে সব ধরনের অর্থবহ সংলাপ ও সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’ পোল্যান্ডের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ইউক্রেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। প্রেসিডেন্টের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ইউক্রেনের আরও তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁদের দেওয়া পোল্যান্ডের সম্মাননা ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
পোল্যান্ড-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। দেশটি এক লাখের বেশি ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ইউক্রেনে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা পালন করেছে। গত মাসের শেষ দিকে ইউক্রেন তাদের ওই সামরিক ইউনিটের নাম ইউপিএর নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন এ নাম রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তিনি এ নিয়ে গভীর হতাশাও প্রকাশ করেন। তবে নাভরোকি জোর দিয়ে বলেছেন, এ কূটনৈতিক বিরোধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে না।



