নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়েছেন মো. সফিক (৩৮) নামের যুবদলের স্থানীয় একজন নেতা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মারধরের শিকার ওই নারীর স্বামী যুবদল নেতার মাছের খামারে কাজ করেন। ওই নারীর অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস ধরে তাঁর স্বামীর বেতন বকেয়া রেখেছেন যুবদল নেতা। পবিত্র ঈদুল আজহায়ও বেতন না পাওয়ায় তাঁদের দিন কষ্টে কেটেছে। এরপর থেকে তাঁর স্বামী যুবদল নেতার খামারের কাজে যান না। এ ঘটনায় ওই যুবদল নেতা তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ওই নারী আরও বলেন, আজ সকালে বাড়ির পাশে নদীতে তাঁর স্বামী জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় সফিক তাঁর স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তাঁর স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও পেটানো হয়। যুবদল নেতা সফিক তাঁর খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে অভিযুক্ত সফিক স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে নারীকে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী তাঁর খামারের মাছ চুরি করেন। আজ সকালে জাল নিয়ে আসার পথে ওই নারী ও তাঁর স্বামী তাঁর ওপর আক্রমণ করেন। তাঁরা তাঁর নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন।
পুলিশি পদক্ষেপ
জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দেখে এরই মধ্যে অভিযুক্ত সফিককে ধরতে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



