ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেয়ি তার পিতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহর জানাজায় প্রকাশ্যে উপস্থিত হবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
জানাজা: একটি সংজ্ঞায়িত মুহূর্ত
জানাজাটি মোজতবার জন্য একটি সংজ্ঞায়িত মুহূর্ত হতে পারে, যিনি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তার পিতা নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় মোজতবার মা ও স্ত্রীও নিহত হন, এবং তিনি নিজেও গুরুতর আহত হন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা জনসমক্ষে আসেননি, শুধুমাত্র লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। তার অনুপস্থিতি তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি করেছে এবং দেশের বিষয়াবলি কে পরিচালনা করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষের আশ্বাস
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই উদ্বেগ দূর করতে চেয়েছে, জোর দিয়ে বলেছে যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলি সক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধান করছেন।
জনসমক্ষে উপস্থিতির গুরুত্ব
পিতার জানাজায় প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া, বিশেষ করে যদি তিনি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন, তবে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর এটি তার প্রথম উপস্থিতি হবে এবং সমর্থকদের মধ্যে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। তবে, অনুপস্থিত থাকলে তার স্বাস্থ্য ও শাসনক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়বে। মোজতবা খামেনেয়ি বুধবার তার প্রয়াত স্ত্রীর জন্য একটি ব্যক্তিগত স্মরণসভায়ও যোগ দেননি, যা জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা
এদিকে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের মন্তব্যে যে খামেনেয়ি ‘মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত’, সে প্রসঙ্গে এই সতর্কতা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশ্ন
ইরানি কর্মকর্তারা মোজতবা খামেনেয়ির জানাজা থেকে অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্তকে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে চিত্রিত করতে পারেন। তবুও, এই পদক্ষেপ তার স্বাস্থ্য ও দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পর্কে উত্তরহীন প্রশ্ন রেখে যাবে।
এই সপ্তাহে সাংবাদিকরা জানাজা আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ানের কাছে জানতে চান নতুন সর্বোচ্চ নেতা জানাজায় উপস্থিত হবেন কিনা। তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের উপর নির্ভর করে।



