পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে ‘খুব দ্রুত’ সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ করা হবে। চীনে সরকারি সফর শেষে বেইজিং ত্যাগের আগে গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
চীনের সম্মতি ও যৌথ জরিপ
মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তায় একটা ফিজিবিলিটি স্টাডির ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছে। আমরা যৌথভাবে স্টাডিটা কমপ্লিট করব।’ তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য নদীর জন্যও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং অনেক নদীর সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা সামঞ্জস্য করা হবে।
দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘চীন যে সহযোগিতা দেবে তার ভিত্তিতে আমরা খুব দ্রুততম সময়ে আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেব। খুব শীঘ্রই তিস্তার পরিকল্পনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবো। এই বাজেটেই যেন কাজ করতে পারি সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিস্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা অববাহিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তার উত্তরণে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রয়োজন, এবং ফিজিবিলিটি স্টাডিতে চীন সম্মত হয়েছে।’
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাস
মন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তিনি দুইবার চীনে এসেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাতবার চীন সফর করেন, যা সম্পর্ক আরও গভীর করে। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নত সম্পর্ক আমরা অত্যন্ত অনার করি।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন যান। চীনের চার দিনের সফরের মধ্যে দুই দিন দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ছিলেন। এরপর বুধবার বিকালে বেইজিং আসেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত বৈঠক করেন। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গেও বৈঠক হয়। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সব বৈঠক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত হয়।
সফরসঙ্গীরা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন।



