জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সভাপতি ড. তানাকা আকিহিতো এবং জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি বুধবার (২২ জানুয়ারি) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী হলো?
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোতে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাইকার উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীরতর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর প্রতি সমর্থন জানান এবং বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। উভয় পক্ষই জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো, এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে।
জাপানের বর্তমান উন্নয়ন সহযোগিতা
জাইকা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার। সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশে পরিবহন, বিদ্যুৎ, নগর উন্নয়ন, এবং শিক্ষা খাতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়। জাপানি প্রতিনিধিরা বলেন, জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবে।
বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও নিবিড় অংশীদারিত্বের আশা ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নারী ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু অভিযোজনে জাপানের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করে। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এরপর থেকে উভয় দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।



