জার্মানির বন শহরে আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’। জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে আয়োজিত এই দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। ‘নির্ভীক, সোচ্চার সাংবাদিকতা’ স্লোগানে আয়োজিত এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে বনে এসেছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।
সম্মেলনের লক্ষ্য ও গুরুত্ব
সম্মেলনের উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার কথা আরও জোরালোভাবে উচ্চারণ করা। জার্মানির পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাধীন মতপ্রকাশ, সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরা এবং বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ ও হুমকির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন মুক্ত গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব হচ্ছে, তখন সত্যের পক্ষে সাহসের সঙ্গে কথা বলা বা ‘উচ্চ স্বরে’ প্রতিবাদ করা সাংবাদিকতার একটি অন্যতম বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মেসিং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকেরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চারভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার মিডিয়া মন্ত্রী ন্যাথানিয়েল লিমিনস্কিও বক্তব্য দেন।
প্রতিনিধি ও সেশন
ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯তম এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে ৫০টির বেশি সেশনে ১৬০ জনের বেশি বক্তা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। তাঁরা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবেন, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ গড়ে তুলবেন এবং জটিল বিষয়কে সহজবোধ্য করে তুলবেন। একই সঙ্গে এমন মানুষদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবেন, যাঁদের কথা হয়তো শোনা যেত না।
আলোচিত বিষয়
সম্মেলনের নানা ফোরামে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা নিয়েই আলোচনা ও মতবিনিময় চলবে। কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া নির্ভীকভাবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রচার করাই এখন চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি, সেন্সরশিপ এবং শারীরিক আক্রমণ মোকাবিলা করে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে—এ বিষয়গুলো সম্মেলনে আলোচিত হবে।
সম্মেলনের অন্যান্য কার্যক্রম
সম্মেলনে অনুপ্রেরণাদায়ক মূল বক্তব্য ও প্যানেল আলোচনা, ব্রেকআউট সেশন, কর্মশালা, নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগসহ নানা পর্ব থাকছে। আয়োজকেরা বলছেন, এই সম্মেলন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রবণতাগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রয়োজনীয় ধারণা দেবে।
সহায়তাকারী সংস্থা
ডয়চে ভেলের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সহায়তা করছে জার্মানির পররাষ্ট্র দপ্তর, নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য সরকার, স্পারকাসে বনের আন্তর্জাতিক সংলাপ ফাউন্ডেশন, ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, জার্মানির সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমবিষয়ক কমিশনার এবং বন সিটি প্রশাসন।



