ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও যৌথ ইশতেহার
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনার জন্য এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ চীন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে বাইরের হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী চীন এবং এটি তাদের দীর্ঘ ৫০ বছরের পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
চীনের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও সমর্থন
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে চীন নিজেও প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং অনেক বিদেশি অপশক্তি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা চালায়। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা চীন পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারে এবং এই বার্তাটি তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করি এবং যেকোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিই।"
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও জে-১০সি যুদ্ধবিমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে বাংলাদেশ কর্তৃক বেইজিং থেকে ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমান কেনার গুঞ্জন নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এই সুনির্দিষ্ট কেনাকাটার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি জানান, যৌথ ইশতেহারে দুই দেশই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, পারস্পরিক সফর এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রত্যাশা
সংবাদ ব্রিফিংয়ের শেষাংশে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন যে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন একটি নতুন ও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনগুলোতে প্রতিরক্ষাসহ সব ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদূরপ্রসারী এবং শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি যে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগামী বছরগুলোতে আরও গভীর হবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।"



