সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন-এর মরদেহ অগভীর কবর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিদেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
২২ বছর বয়সী ইমন গত ১২ জুন কাজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। তিনি চার মাস আগে সাইপ্রাসে পড়তে যান। সাইপ্রাস পুলিশ রোববার (২৩ জুন) তার মরদেহ উদ্ধার করে। কর্তৃপক্ষ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
ইমন নারসিংদীর রায়পুরার গ্রিসপ্রবাসী নাসির উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের মতে, ইমন অরোক্লিনি এলাকায় থাকতেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কফিনুতে একটি কারখানায় খণ্ডকালীন কাজ করতেন।
মুক্তিপণের দাবি
ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন ইমনের পরিবার তার মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৫,০০০ ইউরো মুক্তিপণ দাবি করে একটি বার্তা পায়। সাইপ্রিয়ট মিডিয়ায় মুক্তিপণের বার্তাটির স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা দাবি পূরণ করতে অক্ষম ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার চুক্তি করেন। তবে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন পর পুলিশ ইমনের মরদেহ কবর থেকে উদ্ধার করে, যা তাকে বাঁচিয়ে রাখার আশা শেষ করে দেয়।
পরিবারের অভিযোগ
আত্মীয়রা অভিযোগ করেন, তাকে একটি অপরাধী চক্র অপহরণ ও হত্যা করেছে। ইমনের চাচা আল ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে যে পরিমাণ দাবি করা হয়েছিল তা আমরা ব্যবস্থা করতে পারিনি। পরে আমরা পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার চুক্তি করি, কিন্তু ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তারা তাকে হত্যা করে চলে যায়।
পরিবার দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে এবং ইমনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহায়তা চেয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবার যদি প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় সহায়তা চায় তবে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
এই হত্যাকাণ্ড ইমনের গ্রামের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে, যাদের অনেকেই সাইপ্রাসকে পড়াশোনা ও কাজের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে দেখতেন।
তদন্তের অগ্রগতি
সাইপ্রাস পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি বা এই মামলায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনের পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানায়নি। তদন্তকারীরা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং হত্যাকাণ্ডে অন্যদের জড়িত কিনা তা নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



