ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী: 'সমঝোতার রূপরেখা' চূড়ান্ত না হলে বৈঠকের তারিখ ঠিক হবে না
ইরান: সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত না হলে বৈঠক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে 'সমঝোতার রূপরেখা' চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঠিক করা সম্ভব হবে না। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি নিয়ে ইরানের উদ্বেগ

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুপক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি এর প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের 'অতিরিক্ত দাবি' উত্থাপনের কথা উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে ইরান দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে চায় না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ইরানের শর্ত

অজ্ঞাতনামা ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান তার শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি, যদিও দুপক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এখন দ্বিতীয় দফায় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

এদিকে, বিগত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তেহরান সেগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলাকালীন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত, তবে তা যুক্তিসঙ্গত শর্ত সাপেক্ষে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই আলোচনাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইরানের দৃঢ় অবস্থান দেখাচ্ছে যে তারা কোনো রকম চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। ভবিষ্যতের বৈঠকের তারিখ এখন সম্পূর্ণরূপে সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে, যা বর্তমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।