ইরান-মার্কিন সংলাপে ইসলামাবাদ, শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনিরের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরান-মার্কিন সংলাপে ইসলামাবাদ, শাহবাজ ও আসিম মুনিরের তৎপরতা

ইরান-মার্কিন সংলাপে ইসলামাবাদের ভূমিকা, শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনিরের তৎপরতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসতে পারে। তাঁর মতে, এই সংলাপ চলতি সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চালিয়ে যাওয়া এবং এর প্রতিবাদে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সংলাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও শান্তি প্রক্রিয়া

পাকিস্তান সংলাপ সফল করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতা শেষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির পাকিস্তানে ফিরেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান মূল ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের আলোচনায় বসেন তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা, যদিও সে আলোচনা সফলতার মুখ দেখেনি।

এরপরও পাকিস্তান হাল ছাড়েনি। তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার আশা জেগেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন, তাঁকে ‘দারুণ কাজ’ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব মতপার্থক্য ছিল, তা তেহরানে মুনিরের তিন দিনের সফরের জেরে অনেকটাই দূর হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসিম মুনিরের ইরান সফর ও শাহবাজ শরিফের উদ্যোগ

ইরান সফরের সময় আসিম মুনির দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার ও সামরিক বাহিনীর কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দেশে ফেরার পর পাকিস্তান বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে যে সেনাপ্রধানের এ সফর দেখিয়েছে, পাকিস্তান আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে চায় এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও কম দৌড়ঝাঁপ করছেন না। ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক বিফলে যাওয়ার পর তিনি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে সফর করেছেন। তুরস্কে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শাহবাজ লেখেন যে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তির লক্ষ্যে দুই দেশের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলাপ হয়েছে।

সংলাপের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

আল-জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার বলেন, আসিম মুনির এমন সময় দেশে ফিরেছেন, যখন পাকিস্তান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনও পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করছে। সবার নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। এখনো বড় মতপার্থক্য আছে, তবে একটি অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে।

এমন মতপার্থক্যের সঙ্গে নতুন করে কিছু আশঙ্কাও যুক্ত হয়েছে। যেমন গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও গতকাল আবার বন্ধ করেছে। এর কারণ হিসেবে ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে উল্লেখ করেছে তারা। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খুলে দেওয়াকে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি মনে করা হলেও এখন আবার হরমুজ বন্ধ হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

২২ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মধ্যে এমন উদ্বেগ চলতে থাকলে, তা একটি চুক্তির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলে মনে করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক মাইকেল সুব্রিজ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে আবার হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় হতাশার কারণ। যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মেনে চলতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ও নেতৃত্ব ইরান-মার্কিন সংলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।