তুরস্কে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি আলোচনা
বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদার

তুরস্কে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

তুরস্কের আনতালিয়া শহরে অনুষ্ঠিত ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে কূটনীতিকদের বৈশ্বিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠকটি সংঘটিত হয়, যা বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হিসেবে চিহ্নিত।

সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক উন্নয়নে আলোচনা

বৈঠক প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে ইসহাক দার উল্লেখ করেন, "সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছি এবং আলোচনা সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকাসহ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেছি।" তিনি আরও বলেন, "আমি আমাদের অব্যাহত ইতিবাচক এবং দূরদর্শী সম্পর্কের অপেক্ষায় রয়েছি।" তবে এই প্রসঙ্গে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি প্রদান করেনি।

ইরান সংকট প্রশমনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা

আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে ড. খলিলুর রহমান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "আমি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে গভীরভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, অত্যন্ত অশান্ত একটি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অসাধারণ ও ঐতিহাসিক প্রচেষ্টার জন্য।" ফোরামে ইসহাক দার, খলিলুর রহমান এবং আফগানিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজি দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক একটি প্যানেলের অংশ ছিলেন, যেখানে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংহতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক প্রভাব ও যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান

খলিলুর রহমান আরও বলেন, "আমরা সুড়ঙ্গের শেষে আলো দেখতে পাচ্ছি। সর্বশেষ হরমুজের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ইরানের সিদ্ধান্ত সবার জন্য সুখবর।" চলমান প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় তিনি সতর্ক করে দেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে নিজেকে একা কোনও দেশ রক্ষা করতে সক্ষম হবে না।" পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি জোর দেন, "আমাদের একসঙ্গে নিজেদের নিরোধক করতে হবে।"

ইরান যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এর প্রভাব হবে মারাত্মক। এটি ইতোমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমাদের জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষমতা এবং উন্নয়ন বাজেট থেকে কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ধাক্কা শোষণ করার ক্ষমতা নেই; যার অর্থ আমাদের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

সফরের পরিকল্পনা ও সঙ্গী

প্রসঙ্গত, সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে তুরস্কে গেছেন ড. খলিলুর রহমান। সম্মেলন শেষে রবিবার, ১৯ এপ্রিল তারিখে তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যাবেন। এরপর তার ইথিওপিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা আছে। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে পারে।