ভারত সফর ফলপ্রসূ, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা আলোচনায় জোর: হুমায়ুন কবির
ভারত সফর ফলপ্রসূ, শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন আলোচনায় জোর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ভারত সফরকে ফলপ্রসূ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন। কবির বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক যদি পজিটিভ দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আমরা কিছুটা ভালো প্রোগ্রেস করতে পারব। ওই দিক থেকে এটি ফলপ্রসূ সফর।’

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ইতিবাচক আলোচনা

হুমায়ুন কবির জানান, ভারত সফরে তিনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুটি মিটিংই ইতিবাচক ছিল। আশা করি, আগামী সপ্তাহে আমরা বৈঠকের কিছু পজিটিভ দিক দেখতে পাব।’ এছাড়া, মেডিকেল ভিসা দ্রুত চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় পক্ষ ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যু

বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে হুমায়ুন কবির জানান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সবসময় আলোচনায় থাকবেই, কারণ এটি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের আগ্রহ রয়েছে।’ কবির আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে একজন স্বৈরাচার ও সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ভারতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে অবস্থান করছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী বাংলাদেশের দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে গেছে। তার স্থান বাংলাদেশে আর হবে না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বলেছি শেখ হাসিনা ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। এমনকি তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি আমরা জোড়ালোভাবে জানিয়েছি। সব কিছু স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।’ এছাড়া, জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, এবং হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি কথা বলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আলোচনায় বলেছি, বন্ধুত্বের সম্পর্ক জোরদার করতে হলে দুই পক্ষ থেকে আমাদের সমানভাবে অগ্রসর হতে হবে। একদিনে সব আলোচনা করা যাবে না। যদি দুই দেশের মাইন্ডসেট ঠিক থাকে, তাহলে ইতিবাচক যেকোনো কিছু করা সম্ভব।’ তিনি স্বীকার করেন যে, শেখ হাসিনার উপস্থিতির কারণে সম্পর্ক উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে পারস্পারিক স্বার্থ রক্ষা করে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি সংকট নিরসনের বিষয়ে কবির বলেন, ‘জ্বালানি খাতে তাদের কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, পাইপলাইনে আছে, এটার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। যেখানে সহযোগিতা আরো লাগবে, ওখানে আমরা সহযোগিতা পাব- এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করেছে।’ তবে, এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের আত্মবিশ্বাস ও জনম্যান্ডেট

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনম্যান্ডেটের অভাব উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না। দেশের জন্য জনগণের মানুষের ম্যান্ডেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই তৃতীয়াংশ মানুষের ভোটের ওপর ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা নতুন সরকার গঠন করেছি। সুতরাং, আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। আমরা বড় বলায় কথা বলতে পারি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কবির জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেশ নীতি সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখার মাধ্যমে প্রজেক্ট করতে চাচ্ছেন, যাতে আঞ্চলিক সহায়তা জোরদার করা যায়। স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের ভেতর ভারত সফর হতেই পারে, কিন্তু এখনো ফাইনাল কিছু না, হতে পারে, এটা বিবেচনাধীন আছে।’