ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশিদের ভিসা সহজীকরণের দাবি
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া সরকারের মধ্যে পররাষ্ট্র দফতরের দ্বিতীয় রাউন্ডের পরামর্শ সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আফ্রিকান বিষয়ক মহাপরিচালক ড. সান্তো দারমোসুমার্তো।
ভিসা সহজীকরণ ও সরাসরি ফ্লাইটের আহ্বান
সভায় বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে বৃহত্তর গতিশীলতা ও বিনিময়ের সুবিধার্থে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি, উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট স্থাপনেরও আহ্বান জানানো হয়, যা পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বহুমুখী খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা
এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, পর্যটন, মৎস্যচাষ, সংস্কৃতি এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করে। বাংলাদেশ বিশেষভাবে ফার্মাসিউটিক্যালস, হসপিটালিটি, পর্যটন, আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চামড়া এবং ফুটওয়্যারের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানায়।
বাণিজ্য সহজীকরণ ও যৌথ কর্মীগোষ্ঠী গঠনে সম্মতি
উভয় দেশ বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য আলোচনা কমিটি গঠনের কাজ ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত যৌথ কর্মীগোষ্ঠী গঠনের বিষয়েও ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা ইস্যু
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সভায় বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং তাদের টেকসই জীবিকা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করে, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
এই সভা উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভিসা সহজীকরণ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।



