ইরান যুদ্ধ শেষে সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, আত্মরক্ষার জন্য সিরিয়া সরকার ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ ও পুনর্গঠন
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, দামেস্কের উচিত একটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিরিয়ার এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন যা সমাজের সব অংশকে ধারণ করবে এবং জনসমর্থন পাওয়া এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, সিরিয়া বর্তমানে কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মূলধারায় ফিরে আসার প্রক্রিয়াটি সঠিক পথেই আছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এসডিএফ তাদের নিয়ন্ত্রিত বিশাল এলাকা দামেস্কের হাতে ছেড়ে দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুনর্গঠন ও দক্ষিণাঞ্চলের অনিশ্চয়তা
ফিদান বলেন, সিরিয়ার প্রধান সমস্যা হলো এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর পুনর্গঠন কাজ। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়কে নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আরেকটি বড় ইস্যু। গত বছর ইসরায়েল সিরীয় বাহিনীর ওপর বারবার হামলা চালিয়েছিল এই অভিযোগে যে, দামেস্ক ওই সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
তবে গত জানুয়ারিতে দুই পক্ষ একটি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি করার পর ইসরায়েলি হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ফিদান এই ইস্যুটিকে ব্যবহার করার যে ইচ্ছা ইসরায়েলের আছে, তা স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলার কারণে ইসরায়েল সিরিয়ার বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা কখনোই কিছু করবে না। এখন সিরিয়া ইসরায়েলের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই, তবে সময় সুযোগ বুঝে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে।
হাকান ফিদান জানান, সিরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থানে কোনও সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কাছে স্পষ্ট। আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ ও সতর্কতা অবলম্বন করছি।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সিরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি নিরাপত্তা উদ্বেগের ক্ষেত্র। সেখানে যেকোনও পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মন্তব্যগুলো মধ্য প্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



