বাংলাদেশের আহ্বান: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাই
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে রোববার অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে এ দাবি তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

দীর্ঘস্থায়ী সংকট সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান

কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে বৈশ্বিক নেতৃত্বকে তাদের প্রচেষ্টা আরও তীব্র করতে হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ ক্রমাগত একটি বিশাল বোঝা বহন করে চলেছে

খলিলুর রহমান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন এখনও অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে ফিরে যেতে পারে, তার জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সহ জরুরি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কংক্রিট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, কমনওয়েলথের মতো বহুপাক্ষিক ফোরামগুলো এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি নেতৃত্ব দেন খলিলুর রহমান, যার সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকার প্রধান সম্মেলনের এজেন্ডা ও অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ

বৈঠকে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তব্য দিতে গিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে এই সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার স্বীকৃতি দিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক মিশন প্রেরণের জন্য।

বহুপাক্ষিক বৈঠক ও জাতিসংঘ প্রেসিডেন্সির প্রার্থিতা

সম্মেলনের পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সমকক্ষদের সাথে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। যুক্তরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের সাথে আলোচনায় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বিষয় ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কানাডার সংসদীয় সচিব রবার্ট অলিফ্যান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী আলভিন বোটস, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেট গ্রিন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেতো আবলাকওয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।

এই বৈঠকগুলোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সির জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা সমর্থনের আবেদন জানান। বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।