ভুটান ও নেপালের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত গণশ্যাম ভান্ডারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূতরা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য তাদের সরকারের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে আলোচনা
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং দূরদর্শী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিএনপি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, এই সম্পর্কগুলো কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে আরও মজবুত হবে।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জির সঙ্গে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। উভয় পক্ষ ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে ভুটানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানান। এছাড়াও, তারা কুড়িগ্রামে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চলমান কর্মকাণ্ড নিয়েও মতবিনিময় করেছেন।
নেপালের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতি
নেপালের রাষ্ট্রদূত গণশ্যাম ভান্ডারির সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার জন্য নেপালের সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। উভয় পক্ষই ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেন। তারা বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীর করা এবং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য মতবিনিময় করা হয়। প্রতিমন্ত্রী সার্ক (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) প্রতিষ্ঠায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের কথা স্মরণ করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে এটি পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সার্কের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে সক্রিয় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।"
এই বৈঠকটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



