পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, নিট পরীক্ষা এখন আর সাধারণ কোনো পরীক্ষা নেই, বরং এটি একটি ‘নিলামে’ পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ও পরিসংখ্যান
গত ১০ বছরে দেশে ৮৯ বার প্রশ্ন ফাঁস এবং ৪৮ বার পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাহুল গান্ধী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, পরীক্ষার ৪২ ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে, যা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করা ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত।
তদন্তের অগ্রগতি
রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) বর্তমানে এই পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এসওজি-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক বিশাল বনসাল জানিয়েছেন, ৪১০টি প্রশ্নের একটি বিশেষ ‘গেজ পেপার’ বা সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র তাদের নজরদারিতে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই সেটের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার রসায়ন অংশের প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পরীক্ষার এক মাস আগে থেকেই এই নথিটি বাজারে ঘুরছিল কি না এবং এর পেছনে কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য
রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে বলেন যে, গরিবের সন্তানদের স্বপ্ন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে মোদী সরকারের চেয়ে বড় কোনো হুমকি নেই। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বর্তমান এই অন্যায্য ব্যবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হবে না এবং তারা সবাই মিলে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন আনবে।
এনটিএ-এর বক্তব্য
অন্যদিকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এই অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এনটিএ দাবি করেছে, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহনের জন্য জিপিএস ট্র্যাকযুক্ত যানবাহন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ৫জি জ্যামার মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে পরীক্ষার পবিত্রতা বজায় থাকে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্যগুলো তারা পরীক্ষার চার দিন পর অর্থাৎ ৭ মে হাতে পেয়েছে এবং দ্রুত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে।
অনিশ্চয়তার মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরিবার
একদিকে রাজস্থান পুলিশের তদন্ত এবং অন্যদিকে এনটিএ-র কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি—এই দুইয়ের মাঝে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছে। যদিও রাহুল গান্ধীর দেওয়া ‘১০ বছরে ৮৯ বার প্রশ্ন ফাঁস’ সংক্রান্ত তথ্যের সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



