ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে পুরো বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় ওই যুবক।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার সন্ধ্যায় সাহারানপুরের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের নাম আমির। নিহত নারীর নাম সানা নাজ। মাত্র ছয় মাস আগে আমিরের বড় ভাই সালমানের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল সানার।
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় আমির নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে আসে। কোনো একটি বিষয় নিয়ে ভাবি সানা নাজের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আমির ঘরে থাকা একটি কোদাল দিয়ে সানার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্তঃসত্ত্বা সানার মাথা, ঘাড় ও পেটে কোদাল দিয়ে মুহুর্মুহু আঘাত করে সে। সানার চিৎকারে প্রতিবেশীরা জড়ো হলেও আমিরের হাতে রক্তমাখা কোদাল দেখে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাননি।
পুলিশের সাথে উত্তেজনা
স্বামী সালমান স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আমির কোদাল উঁচিয়ে তাকে বাধা দেয়। সালমান কোনোভাবে পালিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আমির তখন একটি গ্যাস সিলিন্ডারের ভালভ খুলে দিয়াশলাই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সে হুমকি দেয়, কেউ কাছে এলে পুরো বাড়ি উড়িয়ে দেবে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ভয়ে নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও অভিযুক্তের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে টানটান উত্তেজনা। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পুলিশ আমিরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্রেফতার করে।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ জানায়, রাত পৌনে আটটার দিকে সালমান তাদের ঘটনাটি অবহিত করেন। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা মাটি ও অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত সানার শরীরের গভীর ক্ষতগুলো কোদালের আঘাতের চিহ্ন বহন করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত নারীর বাবা মোহাম্মদ আশিকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ এবং নেশার ঘোরই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। অভিযুক্ত আমিরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



