ইতালিতে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির (২৮) খুনের ঘটনায় শোকের মাতম চলছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। সময়ের সাথে সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পারিবারিক কলহ, পরকীয়া এবং আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ে
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকা সত্ত্বেও তিনি তার চাচাতো বোন তায়েবার সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুই বছর আগে দেশে এসে গোপনে তাকে বিয়ে করেন। পরিবার এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় হুমায়ুন তার বাবা-মা ও ভাইয়ের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে তার বাবা ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন।
আর্থিক লেনদেনের জটিলতা
এছাড়া হুমায়ুন ছোট ভাই নয়নকে ইতালি নিতে যে টাকা ব্যয় করেছিলেন, নয়ন ইতোমধ্যে তার চেয়ে বেশি টাকা পরিশোধ করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তবে সম্প্রতি হুমায়ুন আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তিক্ততা চরম আকার ধারণ করে। ঘটনার দিন বিকেলে নয়ন বাড়ির নিচে তার বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে গেলে হুমায়ুন ওত পেতে থেকে পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।
ভিডিও কল ধারণ করে মরদেহ দেখানো
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, নয়নকে হত্যার পর হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নয়নের বোনসহ পরিবারের সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রথম স্ত্রী আমেনাও তার স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে আটক করেছে ইতালি পুলিশ। বর্তমানে তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। এদিকে নিহত নয়নের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কীভাবে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিষাদ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।



