আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনাকে সামনে রেখে কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। ইভিএম কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কলকাতায় দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।
মমতার স্ট্রং রুম পরিদর্শন
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তার নির্বাচনি এলাকা ভবানীপুরের ইভিএমের জন্য নির্ধারিত স্ট্রং রুম সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলে হাজির হন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় স্কুলের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলেরই বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি যে যেখানে ইভিএম রাখা হয়েছে, সেখানে কারচুপি করা হচ্ছে। আমি নিজেই তা দেখতে আসার সিদ্ধান্ত নিই। আমি যখন এখানে পৌঁছালাম, কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনও দলের প্রার্থী এবং নির্বাচনি এজেন্টকে সিল করা ঘর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, সিল করা ঘরের ভেতরে নয়। এরপর আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার (আরও) কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি ইভিএমের ভোট লুট করার চেষ্টা করে, তবে আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করব। আমি সব দলের নির্বাচনি এজেন্টদের বলছি যে আপনারা আপনাদের ভোট পাহারা দিন, কিন্তু ঝগড়া করবেন না, এটি ঝগড়া করার জায়গা নয়। রাজ্য পুলিশ আমাদের অধীনে কাজ করছে না; যেদিন নির্বাচনের ঘোষণা হয়েছে, সেদিন থেকেই তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে। কোনও এক পরাশক্তি কাজ করছে এবং তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।’
তৃণমূলের ধর্না ও অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের ইভিএম স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা এবং দলের কর্মীরা ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কাছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ধর্নায় বসেন।
তৃণমূল কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্রকে হত্যা’ বলে অভিহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে তারা দাবি করেছে, সেখানে স্ট্রং রুমের ভেতরে ইভিএমের সঙ্গে কারচুপি করা হচ্ছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, তারা সব ধরনের নোংরা কৌশল; নাম বাদ দেওয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাস, অর্থের বন্যা বইয়ে দেওয়া সবই চেষ্টা করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে। এখন নিছক মরিয়া হয়ে তারা ইভিএম কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু বাংলা মহারাষ্ট্র, দিল্লি বা বিহার নয়। তারা আমাদের গণতন্ত্র লুট করবে আর আমরা চুপচাপ বসে তা দেখব না।’
এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এক পোস্টে দলটির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালের জবাবদিহি দাবি করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের মিডিয়াবাজ সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের উচিত গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করার চেয়ে তার সাংবিধানিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি যখন নিজেদের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ব্যস্ত, তখন বিজেপিকে সিসিটিভিতে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম স্ট্রং রুমে একক কোনও দলীয় অংশীজনের উপস্থিতি ছাড়াই জোরপূর্বক সিল করা ব্যালট বাক্স ভাঙার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।’
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের এই অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভবানীপুর নির্বাচনি এলাকাসহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের সম্মানিত ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্থাৎ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও ধরনের অন্যায় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



