বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশন প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ওপর মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও পরবর্তী সুপারিশমালা নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইইউ’র ১৯টি সুপারিশ
বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দল বিএনপির কাছে ১৯টি সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার-ভিত্তিক সুপারিশ রয়েছে ৬টি। ইইউ’র প্রতিনিধি দল জানান, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম নির্বাচন সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে সম্মান দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু বিক্ষিপ্ত, স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভ্রান্তিকর অনলাইন বয়ানের মাধ্যমে উসকে দেওয়া মব আক্রমণের অব্যাহত ভীতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
নারীদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
ইইউ প্রতিনিধিরা আরও জানান, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) অংশীজনদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের সততা সমুন্নত রেখে স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে।
আরও জানানো হয়, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, পরবর্তীকালে স্বচ্ছভাবে ফলাফল বিন্যাসকরণ ও সংকলন প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের নবায়নকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস, ডেপুটি পর্যবেক্ষক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এক্সপার্ট ইনটা লেস, সদস্য সভেনটে তরগনি ইঙরোট, ইরিনি মারিয়া গৌনারি ও অ্যান মার্টিনা মার্লবোরো। এছাড়া ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।



