ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইতালি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতালি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচিত। দেশটির সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসনসহ সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করছে।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূতও নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেজন্য বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে চায়।
ইতালির নতুন অভিবাসন নীতি
রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালি দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চলমান রাখাসহ এটিকে বিস্তৃত করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইতালির বর্তমান সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর, যা দেশটির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইতালিতে আগামী জুন মাস থেকে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হবে। এটি চালু হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতসহ অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজতর হবে, যা উভয় দেশের জন্য উপকারী হতে পারে।
জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ভূমিকা
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন, দ্বিপাক্ষিক শ্রমবাজার এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান, যা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইতালির ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের অভিনন্দন পত্র মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন এবং মন্ত্রীকে ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী এ বছরের সুবিধাজনক সময়ে ইতালি সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকের আলোচ্য বিষয়
বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়:
- আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু
- নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া
- জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা
- অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি
- পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক
এই আলোচনাগুলো উভয় দেশের সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



