রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠন চেয়ে করা রিটের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।
শুনানির দিন ধার্য
শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার পরবর্তী এই দিন ধার্য করেন।
রিটের বিবরণ
মরদেহ উদ্ধারের পর নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন, এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে ৩ জুন ওই রিট করা হয়। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন।
আদালতের কার্যক্রম
রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ২৬৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
পরে আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল দুপুর সাড়ে ১২টা সময় নির্ধারণ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার রিটটি করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নূর জাহান বেগমের মৌলিক অধিকার কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে এই রিটে। এই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদের জন্য পরিচর্যাকারী (কেয়ারগিভার) বা নার্স নিয়োগ ও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।



