মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির 'সানডে'স মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে এসে শেষমেশ নিজের মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপস্থাপক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের একের পর এক কড়া প্রশ্ন ও পাল্টা প্রশ্নে রীতিমতো চেপে ধরেন ট্রাম্পকে। পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে ওঠে এবং মাঝপথে রেগেমেগে উঠে চলে যান তিনি।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে ইরান প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকারের শুরুর ৫০ মিনিটজুড়ে ক্রিস্টেন ইরানে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত কখনোই 'অন্তহীন যুদ্ধ' হবে না। ট্রাম্প বলেন, 'আমরা সেখানে (ইরান) কয়েক মাসের জন্য ছিলাম। এখন হুমকি অনেকটাই কেটেছে।'
কারচুপির অভিযোগ ও প্রমাণ চাওয়া
ট্রাম্প দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান প্রাইমারি নির্বাচন এবং ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন—দুটিই 'কারচুপিতে' ভরা ছিল। ক্রিস্টেন তাঁর কাছে প্রমাণ চান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে দেখতে হয়। আর আমি যা শুনি, সেটাও বিবেচনা করি।' ক্রিস্টেন বলেন, 'এটা তো কোনো প্রমাণ হতে পারে না।' ট্রাম্প তখন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন এবং তাদের 'অসাধু' বলে মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকার ছেড়ে ওঠে যাওয়া
ক্রিস্টেনের চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, 'ওরা অসৎ। যেমন আপনিও।' ক্রিস্টেন পাল্টা জবাব দেন, 'সত্যি বলতে, আমি মোটেও অসৎ নই। চলুন, আমরা কথোপকথনটা এগিয়ে নিই।' ট্রাম্প তখন তাকে 'নির্বোধ' বলে আখ্যা দেন। কিছুক্ষণ কথা–কাটাকাটির পর ট্রাম্প বলেন, 'চলুন, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে। ধন্যবাদ প্রিয়, আপনার সময় ভালো কাটুক।' এরপরও ক্রিস্টেন সাক্ষাৎকারটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, 'আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি।'
অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন তহবিল প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকার ছেড়ে ট্রাম্পের উঠে যাওয়ার মিনিট ছয়েক আগেও তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত 'অ্যান্টি–ওয়েপনাইজেশন' তহবিল নিয়ে আলাপ করছিলেন। প্রস্তাবিত এ তহবিল ১৮০ কোটি ডলারের, যা সরকারের অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে পরে পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যায়। শুধু ডেমোক্র্যাটরা নন, কিছু রিপাবলিকানও এর কড়া সমালোচনা করেন, কারণ ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে দাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত বা বিচারাধীন ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়।
ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক
প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ। তিনি প্রায়ই এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতি 'পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ' করার অভিযোগ তোলেন। এনবিসির সাক্ষাৎকারে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



