কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাধর মুখ্যমন্ত্রী, দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসান হতেই আইনজীবী বেশে প্রথমবারের মতো রাজ্যের হাইকোর্টে গিয়ে বিক্ষোভ ও গালাগাল শুনলেন সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভকারীরা মমতাকে ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। এছাড়া অশ্রাব্য গালাগালিও করা হয়। প্রথমে প্রতিবাদের চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে মমতাকে সেখান থেকে গাড়িতে সরিয়ে নেন তার লোকজন। যাওয়ার সময় মমতা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করেছে। ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপি সমর্থিত আইনজীবীদের দায়ী করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
ভোট পরবর্তী একটি সহিংসতার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থে ওই মামলাটি করেন। মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার সকালে। ওই মামলাতেই আইনজীবী হিসাবে শুনানির জন্য এজলাসে যান মমতা। আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু আগে হাই কোর্ট চত্বরে যান মমতা। আইনজীবীর পোশাকে তিনি হাজির হন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে বাদীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন। কিন্তু এজলাস থেকে বের হওয়ার সময়েই ঘটে বিপত্তি।
বিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী যে মামলা লড়তে গেছেন, সে কথা ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাই কোর্টের আইনজীবী মহলে। শুনানি পর্ব শেষে এজলাস থেকে বেরিয়েই লবিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশের সামনে পড়ে যান মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পেয়েই তার বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। ভিড়ের মধ্যে মমতাকে গালাগালও করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই হাই কোর্ট চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। তবে এরই মধ্যে আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।” হাই কোর্ট চত্বরের এই পরিস্থিতির নিন্দায় সরব হয়েছে বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যারা এতদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন, তারা আজ কী বলবেন? রাজ্যের তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দরজায় গিয়েছেন। সেখানে যদি এই ঘটনা ঘটে, তা হলে বিজেপি রাজ্যে কী ধরনের গণতন্ত্রের চাষ করতে চাইছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।” অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি হাই কোর্টের এ ঘটনাকে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের কৃতকর্মের ফল বলে আখ্যা দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পটভূমি
উল্লেখ্য, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হলেও তিনি পড়ালেখা আইনপেশায়। তিনি কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি আলিপুর আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজও করেছেন। আইন ছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ এবং বিএড করেছেন। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার



