ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় শুক্রবার (২৬ জুন) গভীর রাতে গৃহবধূ ও যুবলীগ নেতা খুন হয়েছেন। দুটি ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
গৃহবধূ কাজল আক্তার হত্যা
ফুলগাজীর আমজাদ হাটের তালবাড়িয়া এলাকায় কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী কাজল আক্তার (৩০) নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন। তিনি তিন বছরের সন্তান নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন; বড় দুই ছেলে মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে থাকে।
শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের সিঁড়ি কক্ষের টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে তার হাত-পা বেঁধে হত্যা করে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা মরদেহ দেখতে পান। কাজল আক্তারের বাবা আবদুর রশিদ পাটোয়ারী জানান, তার মেয়ের পরিবারের সঙ্গে ভাসুর ইসমাঈল মাস্টারের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তার সন্দেহ, সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি ভাসুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।
যুবলীগ নেতা জুবায়ের পারভেজ হত্যা
ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে জুবায়ের পারভেজ ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। শনিবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরপাড় থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শুক্রবার রাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই সাব্বির হাসান জানান, বাড়ির শাহাদাত ও মামুনের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তার ভাইয়ের হাতাহাতি হয়েছিল। এর জেরে তারা দুই ভাই মিলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
ফেনী পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জেরেই জুবায়ের পারভেজ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তবে গৃহবধূ কাজল আক্তার হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তার ঘর থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। দুটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
নিহত জুবায়ের পারভেজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।



