প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের পানির প্রবাহ নিশ্চিতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকসহ সবার কাছে পানি সরবরাহ করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
নির্বাচনী আস্থা ও দর্শন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। সেই আস্থা রক্ষা করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের প্রথম দর্শন 'সবার আগে বাংলাদেশ', আর জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দর্শন 'সবার জন্য বাংলাদেশ'। এই দর্শনের ভিত্তিতেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।
জীবনবান্ধব বাজেটের লক্ষ্য
সংসদ নেতা বলেন, তিনি এই বাজেটকে 'জীবনবান্ধব বাজেট' নাম দিতে চান। বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনটি মূল বিষয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সরকার তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছে। প্রথমত, দরিদ্র, নিম্নআয় ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অর্থনীতিকে কুচিকুচি করা হয়েছে। তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের চাকা সচল ও বেগবান করা।
মালয়েশিয়া ও চীন সফর
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করে এসেছেন। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের পর্যালোচনায় বলেছে, আলোচনার বিষয়গুলো দেখে মনে হচ্ছে এবারের সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সঠিক বলেছেন।
বিরোধী দলের বক্তব্য ও বরাদ্দ
এর আগে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে অনুমতি চান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্পিকার অনুমতি দিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের আসনগুলোয় সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহের জন্য মঞ্জুরি বরাদ্দ করেছেন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনগুলোতেও বরাদ্দ দেওয়া হবে।



