মামুনুল হক প্রসঙ্গে বিএনপি এমপির বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ
মামুনুল হক প্রসঙ্গে বিএনপি এমপির বক্তব্য বাদ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, চাই না আমরা।'

বাজেট বিতর্কে মামুনুল হক প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মামুনুল হকের প্রসঙ্গ টানেন বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, 'মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে; সেটা আসলে কী ছিল আমি জানি না।' এ সময় তিনি স্পিকারের কাছে মুতা বিয়ে কী, সে সম্পর্কেও জানতে চান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খোন্দকার আবু আশফাক আরও বলেন, 'ছাত্রশিবির নেতা জিসান... এই ইতিহাসও আপনারা...।' এ সময় সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কিছু একটা বলতে দেখা যায়। তখন বক্তব্যের বিষয় পরিবর্তন করেন খোন্দকার আবু আশফাক।

মামুনুল হকের ঘটনার প্রেক্ষাপট

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ তৎকালীন সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। মামুনুল হক তখন দাবি করেন, ওই নারী তাঁর বিবাহিত স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিকারের মন্তব্য

সংসদ সদস্য আবু আশফাকের বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত যাঁর এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তাঁর সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়।'

খোন্দকার আবু আশফাকের উদ্দেশে স্পিকার আরও বলেন, 'মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়?'

তবে মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, 'মুতা বিয়ে হলো সম্ভবত কেউ বিদেশে গেলে, আগের কালে নিয়ম ছিল সাময়িক, এক মাসের জন্য সো কল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন। এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করা ভালো।'

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিএনপির ওই সদস্যের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, 'মুতা বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মামুনুল হক সাহেবের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশড। বিয়ে করা জায়েজ।'

পরে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় বিষয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন। এ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই।

জামায়াতের সদস্যের বক্তব্য

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওই সংসদ সদস্যকে (খোন্দকার আশফাক) ইশারায় নির্দেশ দিয়েছেন প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। মুজিবুর রহমান বলেন, একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন করা যাবে না।