নাহিদ ইসলামের মন্তব্য: প্রস্তাবিত বাজেট 'অবাস্তব ও প্রতারণার দলিল'
প্রস্তাবিত বাজেট 'অবাস্তব ও প্রতারণার দলিল': নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবাস্তব ও প্রতারণার দলিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

কর্মসংস্থান ও উৎপাদন উপেক্ষিত

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির বদলে ভোগ ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতিকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কনজাম্পশন ডিমান্ড তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রোডাকশন বা ইনভেস্টমেন্ট ডিমান্ড তৈরি করা হচ্ছে না। মানুষ এই অর্থ দিয়ে বিদেশি পণ্য কিনবে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং একটি নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী তৈরি হবে।’ তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে উৎপাদন খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ ও বর্তমান সংকট

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর আওয়ামী লীগের দলীয়করণের কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তবাজার অর্থনীতি ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। বর্তমান সংকটে তরুণদের জন্য সেই ধরনের কর্মসংস্থানমুখী নীতির প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থপাচার ও সম্পদ জাতীয়করণের দাবি

অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের টাকা লুটপাটকারী ও গণহত্যাকারীদের অপরাধ আমি অভিন্ন মনে করি। এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন বা নাসা গ্রুপের মতো যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের সম্পদ জাতীয়করণ করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন আইন করে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা

বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিপিডিবি ১২ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে ৬ টাকায় বিক্রি করছে। এই ঘাটতির বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। আদানি ও সামিট গ্রুপের সঙ্গে করা অসম চুক্তিগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ করা উচিত। বিদ্যুতের দাম না কমলে দেশে শিল্প বিনিয়োগও বাড়বে না।

পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত ইস্যু

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পাশাপাশি ভারতের নতুন হাইকমিশনারের উচিত গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

জুলাই ফাউন্ডেশন ও জাদুঘর

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে গঠিত জুলাই ফাউন্ডেশন অর্থসংকটে রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। অন্যথায় এই বড় বাজেট সাধারণ মানুষের কোনও উপকারে আসবে না।