বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র সমালোচনা মাসুদ সাঈদীর
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র সমালোচনা মাসুদ সাঈদীর

বাজেট বাস্তবায়নের হার নিয়ে তীব্র সমালোচনা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও অর্থবছরেই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তার মতে, দেশের বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়লেও বাস্তবায়নের হার উল্টোপথে হাঁটছে। দুর্বল আর্থিক কাঠামো, ব্যাংক খাতের মূলধন সংকট এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ

রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিসংখ্যানে বাস্তবায়নের চিত্র

মাসুদ সাঈদী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশে, যা ১৯৭৬-৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেও এ হার মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই ধারাবাহিক ঘাটতি বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা

তিনি বলেন, অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, জিডিপির দীর্ঘদিনের নিম্ন প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের চাপ, নীতি প্রণয়নের অতিকেন্দ্রীকরণ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা খাতের বরাদ্দে অসঙ্গতি ও গরমিলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকলেও মন্ত্রণালয়ের তিন বিভাগের হিসাব মিলছে না। তাঁর হিসাব অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বরাদ্দ যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাব বাজেটে স্পষ্ট নয় বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জুলাই স্পিরিট বাস্তবায়নের অভাব

বিএনপির মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মাসুদ সাঈদী বলেন, অর্থমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই ‘জুলাই স্পিরিট’ প্রতিফলিত হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে জমি ও অফিস দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনিক নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগও করেন তিনি।

বৈষম্য ও বিশেষ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলীয় ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা বাজেট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন—যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

ব্যবসা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ

ব্যবসা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মাসুদ সাঈদী বলেন, বিনিয়োগে শুল্ক ছাড় বা প্রণোদনার ঘোষণা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত না হলে বিনিয়োগ আসবে না। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনাকে তিনি ‘ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য

নিজ নির্বাচনি এলাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বড় দুর্নীতির কারণে এলাকায় উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাজিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভাঙা রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।