নিজেদের করা আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর
নিজেদের করা আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিজেদের প্রণীত আইনেই দলটির বিচার করা সম্ভব। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইনের উল্লেখ

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগই ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই দল হিসেবে অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন এনে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি যোগ করে, যা দল বা সংগঠনের বিচারকে সম্ভব করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ৪ জুলাই এক স্মরণ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “বক্তব্যটি আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমিও একইভাবে শুনেছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াত নিষিদ্ধের উদাহরণ

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ এর ১৮ ধারা ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এই আইনটি আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছিল। অন্য কোনো সরকার এমন আইন প্রণয়ন করেনি।

অভিযোগ ও তদন্ত

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, টানা শাসনামলে দল হিসেবে নানান অপরাধ সংগঠন করেছে আওয়ামী লীগ। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির দায় থেকেও অনেক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তিনি ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফ্যাসিজম রাষ্ট্র কায়েমের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না।” তিনি তিনটি নির্বাচনকে রাতের, একদলীয় বা আমি-ডামি নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ

আমিনুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে। নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর তাদের সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তদন্ত ও ব্যবস্থা

চিফ প্রসিকিউটর জানান, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করছে তদন্ত সংস্থা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপরাধও আলাদাভাবে তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। তদন্তের পর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।