বগুড়ায় যুবলীগ কর্মীর হাত-পা ভাঙার ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়ায় যুবলীগ কর্মীর হাত-পা ভাঙায় যুবদল নেতাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনে প্রার্থী যুবলীগ কর্মী আলাল শেখকে (৪৬) তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত আলালের বাবা মেরু শেখ শনিবার রাতে সদর থানায় এ মামলা করেন, যেখানে জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ এজাহারনামায় উল্লিখিত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন রনি শেখ (৩০), তৌফিক খান তৌফিক (২৬), গোলাম রসুল নাহিদ (৩০) ও সুমন মিয়া (৩৮)। সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানিয়েছেন, অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব উল্লেখ করেছেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সমিতির নির্বাচনের দিন গত শনিবার সকালে আলাল শেখকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে পূর্ববিরোধের জের ধরে শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক আলালকে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি বাগানে নিয়ে বেঁধে মারপিট করে। এই হামলায় তার দুই পা ও একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পায়ের রগ কর্তনসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে বিকাল ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলাল শেখের পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আলাল শেখ বগুড়া শহর যুবলীগের সক্রিয় কর্মী এবং বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক আলোচিত মতিন সরকারের শ্যালক হিসেবে পরিচিত। তিনি ফতেহ আলী বাজারে মাংসের ব্যবসার পাশাপাশি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং গত শনিবারের নির্বাচনে একই পদে প্রার্থী ছিলেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুবদলের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান জানিয়েছেন, সংগঠনের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এই ঘটনায় সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

এই মামলাটি বগুড়া অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্বাচনী সংঘাতের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছে। পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান এই ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।